
সৌদি আরবে ব্যবসার ৬৭ হাজার রিয়াল (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২ লাখ ৭৮ হাজার টাকা) পাওনা রেখে দেশে চলে আসার অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ওই ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ ফোরকান (৩২)। পাওনা টাকা উদ্ধার করতে গিয়ে তাঁর ব্যবসায়িক অংশীদার কাইছার উদ্দিন এখন চরম বিপাকে পড়েছেন।
এদিকে কাইছারের কাছ থেকে ফোরকানকে ছাড়িয়ে নেওয়া আবদুল মজিদকে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় মজিদের বাবা আবদুস শুক্কুর (৫২) মোহাম্মদ ফোরকান (৩২, তাঁর বাবা জাগির আহমদ (৬০) ও মা নুরুন্নাহারসহ (৫০) অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে লোহাগাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তাঁদের বাড়ি লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান ইউনিয়নের উত্তর রসুলাবাদ এলাকায়। অভিযোগকারী আবদুস শুক্কুর একই এলাকার বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে ব্যবসার সূত্রে ফোরকানের কাছে চকরিয়ার কাকারা ইউনিয়নের মাইজকাকারা এলাকার বাসিন্দা কাইছার উদ্দিনের ৬৭ হাজার রিয়াল পাওনা হয়। টাকা পরিশোধে বারবার সময় নেওয়ায় একপর্যায়ে ফোরকানকে আটকে রাখেন কাইছার। পরে একই এলাকার বাসিন্দা আবদুল মজিদ তাঁকে ছাড়িয়ে নেওয়ার দায়িত্ব নেন এবং পাওনা টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু কাইছার ও মজিদকে না জানিয়ে ফোরকান গোপনে বাংলাদেশে চলে আসেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এরপর পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য কাইছার সৌদি আরবে মজিদকে আটকে রাখেন বলে দাবি করেছেন মজিদের বাবা আবদুস শুক্কুর। বিষয়টি তাঁকে জানানো হলে তিনি ফোরকানের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে যান।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত ১৯ অক্টোবর বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে আবদুস শুক্কুর ফোরকানের বাড়িতে যান। সেখানে পাওনা টাকা ও ছেলেকে আটকে রাখার বিষয়ে কথা বলতে গেলে তাঁকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে গুম ও হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সৌদি আরবপ্রবাসী কাইছার উদ্দিন বলেন, ফোরকানের সঙ্গে তাঁর ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে ফোরকানের কাছে তাঁর ৬৭ হাজার রিয়াল পাওনা হয়। টাকা পরিশোধে বারবার সময়ক্ষেপণ করায় তিনি ফোরকানকে আটকে রাখেন। পরে দ্রুত টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আবদুল মজিদ ফোরকানকে ছাড়িয়ে নেন।
কাইছার উদ্দিন বলেন, ‘ফোরকান আমাকে ও মজিদকে কিছু না জানিয়ে গোপনে বাংলাদেশে চলে গেছেন। বিপুল পরিমাণ টাকা হারিয়ে এখন পথে বসার উপক্রম হয়েছে আমার। আমি চরম বিপাকে পড়েছি।’
অভিযোগের বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানিয়েছেন, অভিযোগটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।




